বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, বরিশাল : বরিশাল নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাফিন মাহমুদ তারেকের বিরুদ্ধে অন্তহীন অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। এলাকায় নানা অন্যায়-অপকর্মের হোতা এই তারেকের বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্য, দখল সন্ত্রাস ও নারী কেলেঙ্কারীসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। হঠাৎ আ’লীগ নেতা বনে যাওয়া তারেকের উল্লেখযোগ্য কোন ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান না থাকলে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে গত ৫ বছরে পকেটে পুরে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার এত সম্পত্তির উৎস কোথায়? এ নিয়ে চলছে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে সমালোচনা।
স্থানীয়সহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে রাতারাতি নেতা বনে যান তারেক। নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডে রুপাতলী এলাকাজুড়েই আরো আগ থেকেই তারেকে নিয়ন্ত্রণে মাদক ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে। যার ভয়ে পুরো ২৪নং ওয়ার্ডের শান্তিপ্রিয় নারী পুরুষ থাকেন আতংকে, সেই ব্যক্তিই এখন ওয়ার্ডবাসির বিষফোড়া হয়ে উঠছে। বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র দয়ায় হয়েছিলেন একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এরপর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ২৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন তারেক। অভিযুক্ত সাফিন মাহমুদ তারেক। এরপর থেকেই একেরপর স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ আসছে পত্রিকা অফিস বরাবর। এমনই এক অভিযোগ সূত্রে তারেকের বিরুদ্ধে উল্লেখ করেন চাঁদাবাজি, দখল, লুটপাট পরকিয়ার মত গুরুতর অভিযোগ।
অভিযোগ সূত্র জানা যায়, সাফিন মাহমুদ তারেক গত বর্তমান মেয়রের গত সাড়ে ৪বছরে গড়েছেন অটল সম্পত্তি। নেই ব্যবসা, চাকুরী তারপর তার চলা ফেলা রাজকীয়। গড়েছেন ২৪নং ওয়ার্ডে আক্কেল আলী সড়কে আলিসান বাড়ি, রয়েছে একাধীক নামে বেনামে জমিজমা। ২৪নং ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসায়ীদের এক সিন্ডিকেট তৈরি করে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন যুবসমাজ। থেমে নেই ধান গবেষনা রোডে চলমান ৫৬টি অটোরিকশা থেকে পুলিশের নামে প্রতিমাসে ৪০হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন। এছাড়াও দপদপিয়া সেতু টোলে ২০ গাড়ি ফ্রি করিয়ে নিজেই চাঁদা উত্তোলন করে নিজেকে নিয়েছেন কোটিপতির তালিকায়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত বছরে লালদীঘির পাড় পুকুর থেকে এক রাতে প্রায় ৫০/৬০ জন। সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রায় ৪০লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুটপাট করেন সাফিন মাহমুদ তারেক। এঘটনায় বাদী হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতে একটি মাছ লুটের মামলা দায়ের করেন। তবে বর্তমান মেয়রের সহচরী হওয়ায় আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে বেড়িয়ে আসেন তারেক। বর্তমানে ওই মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, গত বছরে ২৪নং ওয়ার্ডের অস্থায়ী বাসিন্দা জসিম এর স্ত্রী ছদ্মনাম (কলি) সাথে কুয়াকাটা একটি আবাসিক হোটেলে পরকিয়া করার সময় স্থানীয়রা আটক করেন। পরবর্তীতে টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার কথা অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তারেকের এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ পুরো ওয়ার্ডবাসী। তারা বলছেন, তারেক যদি কাউন্সিলর হয় তাহলে তাদের জন্য দুঃসংবাদ। পুরো ওয়ার্ডে মাদকের একটি সিন্ডিকেট তারেকের নিয়ন্ত্রণেই চলে। প্রশাসন বিষয়টি নজর দিলে বেরিয়ে আসবে। তারা আরো উল্লেখ করেন, কাজবাজ না করে গত সাড়ে চার বছরে জিরো থেকে হিরোর তালিকায় সাফিন মাহমুদ তারেক। এত সম্পত্তির উৎস কোথায়? এ নিয়ে চলছে পুরো ওয়ার্ড জুড়ে সমালোচনা। এবিষয় সাফিন মাহমুদ তারেকের মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয় সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাড়ি আছে তবে সেটা সাড়ে ৪তলা ভবন, আমাদের দুই ভাইয়ের। অটোগাড়ি থেকে আমি কোন টাকা উঠাই না। তবে আমি কুয়াকাটা হোটেলে মেয়েসহ ধরা খাইছি পুরো ঘটনাটি মিথ্যা। এছাড়া আমি শুনেছি আমার নামে মাদকের একটি সিন্ডিকেট চলে, তবে আমি মাদকের সাথে জড়িত নই। প্রশাসনের কাছে আমার অনেক শুনাম রয়েছে। হয়তো আমাকে নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করতে চায় ।
আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৪ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী সাফিন মাহমুদ তারেকের বিরুদ্ধে ভোট চাইতে গিয়ে নারী ভোটারদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচারণ করার অভিযোগ উঠেছে। ভোট চাইতে গিয়ে নারীদের এমন হয়রানী ঘটনা বর্তমানে ওই এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ মে) রুপাতলী গ্যাসটারবাইন এলাকার পুলিশ বাড়ি ও বড় বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তারা জানান, ২৪ নং ওয়ার্ডে বর্তমানে ঘুড়ি মার্কা নিয়ে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাফিন মাহমুদ তারেক। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে তারিক ও তার সমর্থকরা ভোট চাইতে রুপাতলীর পুলিশ বাড়ি ও বড় বাড়ির স্থানীয় ভোটারদের বসতঘরে প্রবেশ করেন। তিনি ভোট চাওয়ার ছলে ওই ঘরে থাকা নারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন তারেক। এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারিক তার ঘুড়ি মার্কার লিফলেট বিতরণ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বিষয়টি জানতে তারিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
২৪ নং ওয়ার্ডের কামাল নামে এক বাসিন্দা বলেন, সাফিন মাহমুদ তারেক ১৯৯৬ সালে সাগরদী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী বাসার বাহীনির অন্যতম সদস্য ছিলেন। বর্তমানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে আসীন হয়ে এলাকায় মাদক, দখল, নারী কেলেঙ্কারীসহ নানা অপকর্মে পূণরায় জড়িয়ে পরেছেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply